ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বীর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাদ আসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সর্বদলীয় ওলামা মাশায়েখের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত ওলামা পরিষদের মহাসচিব মুফতি ড. খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামি কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব মাওলানা ফয়েজুল্লাহ আশরাফী, ওলামা মাশায়েখ পরিষদ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ, ওলামা মাশায়েখ পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহ আবদুল মনিব নাসীরি, অধ্যক্ষ ড. মহিউদ্দিন আহম্মদ, অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম মিয়াজী, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান আল আজহারী, অধ্যক্ষ মুফতি নুরুল আমিন, অধ্যক্ষ মুফতি আজহারুল ইসলাম, মুফতি শফিক বিন বাহাউদ্দিন, মুফতি আবদুল গনি, মাওলানা আনিসুর রহমান, মুফতি মোসতাজা বিল্লাহ, মুহাদ্দিস আবু হানিফ মিশারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা নাজির মাহমুদ প্রমুখ।


বক্তারা বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি নিজের জীবন দিয়ে আমাদের সম্মান, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে সাক্ষ্য রেখে গেছেন। শহীদ ওসমান হাদির রক্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাই সত্যিকারের মানবিকতা। শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে কারো সম্পর্ক ভালো নয়। আগ্রাসন শুধু অস্ত্রের আঘাত নয়, এটি ন্যায়, মানবতা ও বিবেকের ওপর আঘাত। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ব্যাপারে হাদি সবসময় আওয়াজ তুলতেন, আর কোনো গডফাদারনির্ভর নেতিবাচক চিন্তাধারাকে ভয় না পেয়ে সাহসী হয়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। নতুন নতুন নেতিবাচক শক্তির জন্ম হবে, ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ হবে এই দর্শনের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া আজ নতুন কোনো বিষয় নয়। মুজাদ্দেদে আলফেসানী থেকে শুরু করে শহীদ তিতুমীরসহ বহু বীর মুজাহিদ এসব আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জীবন দিয়েছেন, আমরাও প্রস্তুত। যে শক্তি দুর্বলকে দমন করে, যে ক্ষমতা সত্যকে চাপা দিতে চায়, তার বিরুদ্ধে শহীদের জীবন ছিল এক নীরব কিন্তু শক্ত প্রতিবাদ। আমরা বলি, আমরা আগ্রাসনের পক্ষে নই, আমরা জুলুমের বিরুদ্ধে। শহীদরা শুধু অতীতের গল্প নন, তারা আমাদের বর্তমানের দায়িত্ব। অন্যায় দেখেও চুপ থাকা, নির্যাতন জেনেও নির্লিপ্ত থাকা এগুলোও এক ধরনের অপরাধ। নৈতিক দায়িত্ব মানে শুধু কথা বলা নয়, সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সৎ থাকা, অন্যায়কে না বলা, দুর্বলকে রক্ষা করা।


সমাজ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ঘৃণা নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা, প্রতিশোধ নয়, সুবিচার নিশ্চিত করা। শহীদের রক্ত যেন আমাদের চরিত্রে, আচরণে ও সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়। প্রতিজ্ঞা ও দোয়ায় আমরা বলি, যুগে যুগে হাদিদের জন্ম হয়েছে আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। আমাদের সুন্দরবন, আমাদের হিল ট্র্যাক্টস, আমাদের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আমাদের করিডোর, আমাদের কাঁটাতারের বেড়া, আমাদের সীমান্তে ফেলানীদের হত্যা কোনো নির্মম আগ্রাসনই মেনে নেওয়া যাবে না। আজ থেকে আমাদের শপথ, আমরা সবাই হাদি হবো। হাদি হয়েই আগ্রাসন রুখে দেবো।
আলোচনা সভা শেষে দেশবরেণ্য ওলামা মাশায়েখবৃন্দ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।
